কার কাছে শপথ নেবেন নতুন এমপিরা, যা জানালেন আইন উপদেষ্টা

নিউজ ডেস্ক | /DAILYNABARAJ24.COM

প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, সময়ঃ ১২:৪৮

নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সাধারণত জাতীয় সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের কাছে শপথ গ্রহণ করে থাকলেও চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানজনিত বিশেষ পরিস্থিতির কারণে এবার সেই নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে না। 

 

অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, এবার নির্বাচিত নতুন সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো ব্যক্তির কাছে, প্রধান বিচারপতির মাধ্যমে শপথ গ্রহণ করতে পারেন।

 

তিনি আরও বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচিত হওয়ার তিন দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণের বিধান রয়েছে। সে ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময় অতিক্রম হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারও সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করাতে পারেন।

 

আইন উপদেষ্টার এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ প্রক্রিয়ায় একটি ব্যতিক্রমী ও সাংবিধানিক বিকল্প ব্যবস্থার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। চলমান পরিস্থিতিতে শপথ আয়োজন সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে পরবর্তী নির্দেশনার মাধ্যমে জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রশ্নের জবাবে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল এ কথা বলেন।

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করা হবে ১২ ফেব্রুয়ারি। একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেছেন। তার আগে আগস্ট মাসে ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু গ্রেপ্তার হন।


এমন পরিস্থিতিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের কে শপথ পড়াবেন, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। এ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী নতুন যাঁরা সংসদ সদস্য হবেন, তাঁদের শপথ গ্রহণ করানোর কথা হচ্ছে স্পিকারের। স্পিকার না থাকলে ডেপুটি স্পিকারের। তাঁরা না থাকলে অন্য বিধানও আছে। এখন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের মধ্যে একজন নিখোঁজ, আরেকজন কারাগারে আছেন।

 

আইন উপদেষ্টা বলেন, তাঁদের (স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার) বিরুদ্ধে গুরুতর কিছু মামলা আছে এবং তাঁরা পদত্যাগও করেছেন, বিশেষ করে স্পিকার। ফলে এ অবস্থায় তাঁদের দিয়ে শপথ গ্রহণ করার কোনো রকম সুযোগ আছে বলে তিনি মনে করেন না।

 

আইন উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘আমাদের আইনে আছে, ওনারা (স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার) যদি শপথ গ্রহণ করাতে না পারেন, তাহলে রাষ্ট্রপতি মনোনীত, অর্থাৎ প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি শপথ গ্রহণ করাবেন, এক। দুই হচ্ছে, তিন দিনের মধ্যে যদি এই শপথ না হয়, তাহলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারও শপথ গ্রহণ করাতে পারবেন।’

 

আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘এখন এটা (নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ) সরকারের নীতিগত পর্যায়ের সিদ্ধান্ত। এখন আপনাদের চূড়ান্ত কিছু বলতে পারব না। তবে আমাদের সামনে দুটি অপশন আছে। একটা হচ্ছে রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো ব্যক্তি শপথ গ্রহণ করা পারেন। উদাহরণ হিসেবে হয়তো আমাদের প্রধান বিচারপতি হতে পারেন। আর এটা যদি না হয়, তাহলে আমাদের প্রধান নির্বাচন কমিশনার আছেন, তিনিই শপথ গ্রহণ করাবেন। এ ক্ষেত্রে একটি সমস্যা আছে, তিন দিন অপেক্ষা করতে হবে। আমরা আসলে অপেক্ষা করতে চাই না, আমরা নির্বাচন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করতে চাই।’

 

এখন বিষয়টি নিয়ে সংসদ সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবের সঙ্গে আলোচনা হবে জানিয়ে আইন উপদেষ্টা বলেন, তাঁর (জ্যেষ্ঠ সচিব) সঙ্গে কথা বলা হবে, আইন দেখা হবে। তারপর চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রধান উপদেষ্টাকে অভিমত জানানো হবে।


সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ইফতেখার আহমেদ টিপু

সম্পাদকীয় ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

১২ বিপনন বা/এ, সোনারতরী টাওয়ার, বাংলামটর, শাহবাগ, ঢাকা, বাংলাদেশ।

© dailynabaraj24.com ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।